বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1

ডিএসই'র অদক্ষতায় আতঙ্ক

সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেনে আবারও জটিলতা
ম যাযাদি রিপোর্ট
  ৩১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে আবারও বিপর্যয় নেমে এসেছে। যেই মুর্হূতে আগের সপ্তাহের সার্ভার জটিলতার কারণ খতিয়ে দেখার তদন্ত চলছে, সেই সময় আবারও নির্ধারিত সময় লেনদেন শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্রোকারেজ হাউসগুলো থেকে জানা গেছে, ডিএসইতে অযোগ্য লোকদের লালন করার কারণে দক্ষ লোক কোণঠাসা হয়ে বিদায় নেয়। ফলে এক্সচেঞ্জটি তাদের মূল কাজেই হোঁচট খাচ্ছে। অব্যাহত দরপতনের মধ্যে ডিএসইর ব্যর্থতায় আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা বিলম্বে অর্থাৎ বেলা ১১টায় লেনদেন শুরু হয়। এ ঘটনায় শুধু দুঃখ প্রকাশ করছে ডিএসই। তারা বলছে, প্রযুক্তিগত ত্রম্নটি ছিল না। কিন্তু ভুল অপারেশনের কারণে এমনটি হয়েছে। ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন লেনদেন বন্ধ থাকার জন্য কোনো প্রযুক্তিগত ত্রম্নটি নেই। ডিএসই মার্কেট অপারেশন ভুলবশত ৭০টি সিকিউরিটিজের পরিবর্তে সব সিকিউরিটিজের ওপর সার্কিট ব্রেকার (সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন দর) আরোপের ফলে মার্কেট বন্ধ রাখা হয়। এই ভুল সংশোধন করে মার্কেট সকাল ৯-৩০ মিনিটের পরিবর্তে বেলা ১১টায় চালু করা হয়। যা দুপুর ২-৩৫ মিনিট পযন্ত চলে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য ডিএসই কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করছে। জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ৯-৩০ মিনিটে দুই শেয়ারবাজারেই লেনদেন শুরু হয়। কিন্তু রোববার ডিএসইর নির্ধারিত সময় লেনদেন শুরু করতে পারেনি। দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সকাল ৯-৩০ মিনিট থেকে লেনদেন শুরু হয়েছে। অবসর সময় বিনিয়োগকারীরা ব্রোকার হাউসগুলোতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ম্যাচ দেখে সময় পার করেছেন। কেউ কেউ খেলা দেখার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিএসইর সমালোচনা করেছেন। আইসিবি সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী কল্যাণ ফোরামের সভাপতি মহিনউদ্দিন মিন্টু বলেন, 'নির্ধারিত সময় লেনদেন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু করতে পারেনি ডিএসই। তবে সিএসই সঠিক সময় লেনদেন শুরু করেছে। লেনদেন না হওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এখন খেলা দেখে সময় পার করছি।' এর আগে গত সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে (২৪ অক্টোবর) লেনদেন শুরুর দেড় ঘণ্টার মাথায় কারিগরি ত্রম্নটির কারণে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে নির্ধারিত সময় অর্থাৎ দুপুর ২টা পর্যন্ত ওইদিন কারিগরি ত্রম্নটির সমস্যার সমাধান করা যায়নি। দুপুর ২টার পর সমস্যার সমাধান হলে ২-১০ মিনিট থেকে ২-৩০ মিনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় ২০ মিনিট লেনদেন হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ওইদিন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই মধ্যে এ ধরনের আরেকটি ঘটনা বিনিয়োগকারীদের হতাশ এবং উদ্বিগ্ন করেছে। বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার কমিশন মিটিং রয়েছে। সেখানে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ডিএসইর কোনো একটি মহল বাজার নিয়ে নেতিবাচক কোনো কর্মকান্ড করছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখবে কমিশন। আগের তদন্ত কমিটিই কাজ করবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড রোজারিও বলেন, ডিএসইর মূল কাজই হলো আইটি বা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া। বলতে গেলে ডিএসই একটি আইটি সুবিধা প্রদানকারী সংস্থা। তারা ব্যর্থ হলে ব্রোকার ও বিনিয়োগকারী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান মো. ইউনুছুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। রিপোর্ট পেলে জানা যাবে, কি কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে