আ’লীগে ৭, বিএনপিতে ২ জন

একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চন চুয়াডাঙ্গা-২ (জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা এবং সদরের একাংশ)
আ’লীগে ৭, বিএনপিতে ২ জন

বড় নিবার্চনের ক্ষেত্রে আগভাগেই মাঠ গরম হয়। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ক্ষেত্রে উত্তাপ একটু বেশিই মনে হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রাথীর্রা একটু বেশিই নড়াচড়া করছেন। তারা প্রতিনিয়ত ছুটছেন। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রাথীর্রা।

পেছনের হিসাব অনুযায়ী, আসনটি বেশিরভাগ সময় বিএনপি কিংবা বিএনপি-জামায়াত জোটের হাতে থেকেছে। বড় সব নিবার্চনে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীকে ফ্যাক্টর হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। আসন্ন নিবার্চনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী- এই তিনটি দলই তাদের দলীয় প্রাথীের্ক জিতিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গণসংযোগে ব্যস্ত। এই আসনে অতীত নিবার্চনগুলোতে জাতীয় পাটির্র অবস্থান থেকেছে চতুথর্ নম্বরে।

জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ, গড়াইটুপি ও বেগমপুর ইউনিয়ন নিয়ে এই আসন।

জেলা নিবার্চন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে এলাকায় ভোটার চার লাখ পঁাচ হাজার ৬৫৩। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ তিন হাজার ৫৪৩ এবং মহিলা দুই লাখ দুই হাজার ১১০।

এই আসন থেকে অতীতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রাথীর্র জয়লাভ করার রেকডর্ আছে। ফলে, এই আসন থেকে কোন দলের প্রাথীর্ নিবাির্চত হবেন, সেটা আগভাগে বলে দেয়া খুব সহজ কাজ নয়। বোধহয় এ জন্যই সব দলের সম্ভাব্য প্রাথীর্রা আশায় বুক বেঁধে গণসংযোগ করছেন। মনোনয়ন পাওয়ার আগেই তারা যেভাবে তৎপর, এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এই আসনের ভোটযুদ্ধ হবে দেখার মতো।

এই আসনে আওয়ামী লীগের সাতজন ও বিএনপির দুইজন প্রাথীর্ মাঠে নেমেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রাথীর্র নাম ঘোষণা হয়ে গেছে আগেই। তিনি হলেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রুহুল আমিন।

পরপর দুইবার আওয়ামী লীগের হাতে থাকা জাতীয় সংসদের এই আসনটি আগামী নিবার্চনের মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ নিজের হাতে রাখতে চাচ্ছে। আসনটি একসময় বিএনপির দখলে ছিল। সঙ্গত কারণেই তারাও স্বপ্ন দেখছে আসনটিকে তাদের দখলে নেয়ার। জামায়াতে ইসলামীর দাবি, এই আসনটি আসলে তাদের। একসময় তাদের দলীয় নেতা এই আসনে জয়লাভ করেছেন। আবারও তারা জিততে আশার স্বপ্ন দেখছেন।

আওয়ামী লীগ : আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রাথীর্ তালিকায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও এই আসনের বতর্মান সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক হাশেম রেজা, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মন্্জু, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল মল্লিক, দশর্না পৌরসভার বতর্মান মেয়র ও দশর্না পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান বকুল।

আলী আজগার টগর নবম জাতীয় সংসদ নিবার্চনে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের টিকিটে নিবাির্চত হন। জাতীয় নিবার্চনে প্রথম ভোটযুদ্ধে এসেই তিনি বিজয়ের মুকুট পরেন। দশম জাতীয় সংসদ নিবার্চনেও তিনি বিজয়ী হন। আসন্ন নিবার্চনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হওয়ারও আশাবাদী তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বড় দলে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। দলীয় কোন্দলের কারণে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি, তা ঠিক নয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। তিনি হাইকমান্ডের কাছে নিজের জন্য মনোনয়ন চাইবেন। তবে, তিনি এখনো জোরেসোরে প্রচারণা শুরু করেননি। তিনি বলেন, অনেকেই তাকে ফোন করে, দেখা করে ভালোভাবে নিবার্চনী প্রচারণা চালানোর জন্য বলছেন। তার টাকা-পয়সা নেই। তাই আস্তে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন। দল মনোনয়ন দিলে দলীয় নেতাকমীের্দর সঙ্গে নিয়ে জোরেসেরে প্রচারণায় নামবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আজাদুল ইসলাম বলেন, তিনি মনোনয়নপত্র তুলেছেন। দল যদি মনোনয়ন দেয়, তাহলে সবাই তার সঙ্গে থাকবেন বলে আশা করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক হাশেম রেজা ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক। চুয়াডাঙ্গা জেলার দুটি আসনে তিনিই একমাত্র

সাংবাদিক, যিনি মনোনয়নের জন্য মাঠে তৎপর। তিনি বলেন, তার রাজনীতি করার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের সেবা করা। মানুষের সেবা করতে না পারলে তার রাজনীতি করার দরকার নেই। তিনি সাধ্যমতো মানুষকে সহযোগিতা করছেন। এলাকার মানুষের উন্নয়নের চিন্তা-ভাবনা মনে ধারণ করে তিনি সংসদ নিবার্চনে দলীয় প্রাথীর্ হতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বাথের্ আবারও জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন দেশের জনগণ। দলীয় মনোনয়ন পেলে ইনশাল্লাহ; ভোটাররা তাকে ভোট দিয়ে নিবাির্চত করবেন।

দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মঞ্জু গণসংযোগ করছেন নিয়মিত। তিনি আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কাছে নিজের জন্য দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। মাহফুজুর রহমান মঞ্জুর অনুসারিরা মনে করেন, টানা দুই বছর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি মানুষের কাছাকাছি থেকেছেন। উন্নয়নমূলক কাজও হয়েছে জেলা পরিষদ থেকে। এ ছাড়াও তিনি বরাবরই সেবামূলক ও উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। পেছনের এসব ভালো পদক্ষেপ বিফলে যাবে না। মাহফুজুর রহমান বলেন, মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন, ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন, মনের জোর বেড়ে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য অনেক কাজ করতে পারেন। সেই সুযোগ তিনি কাজে লাগাতে চান।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল মল্লিক গণসংযোগ করছেন। তিনিও মনোনয়ন চাইছেন।

দশর্না পৌরসভার বতর্মান মেয়র মতিয়ার রহমান মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। মতিয়ার রহমান জানান, সংসদীয় এলাকার মানুষ তার পাশে আছেন।

বিএনপি : পঞ্চম জাতীয় সংসদ নিবার্চন থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নিবার্চন পযর্ন্ত চুয়াডাঙ্গা-২ নিবার্চনী এলাকা শক্ত হাতে দখলে রেখেছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজি মোজাম্মেল হক। এমপি নিবাির্চতও হয়েছিলেন তিনবার। গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফলে, এই আসনে নতুন মুখ ছাড়া বিএনপির কোনো উপায় নেই। এই আসনে এখন পযর্ন্ত মাত্র দুইজন সম্ভাব্য প্রাথীর্ হিসেবে মনোনয়ন তুলেছেন। তারা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু এবং জেলা বিএনপির সদস্য মখলেছুর রহমান তরফদার টিপু। এই দুই নেতার মধ্যে দলের সিংহভাগ নেতাকমীর্ আছেন মাহমুদ হাসান খান বাবুর পক্ষে।

আরেক সম্ভাব্য প্রাথীর্ মখলেছুর রহমান তরফদার টিপু বলেন, তিনি মনোনয়ন চেয়েছেন। দীঘির্দন দলের জন্য এবং এলাকার জন্য কাজ করছেন। দশর্নার সন্তান হিসেবে তিনি তার নিবার্চনী এলাকার উন্নয়ন চান। এই উন্নয়নে তিনি ভ‚মিকা রাখতে চান। দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি আশাবাদী। বিএনপির ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য সাধারণ শান্তিপ্রিয় ভোটাররা অপেক্ষায় রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে বিজয়ের ব্যাপারেও তিনি আশাবাদী।

জামায়াত : জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মওলানা হাবিবুর রহমান এই আসনে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নিবার্চনে জয়লাভ করেন। নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রæয়ারি। ওই সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা হলেও রাজনীতির চেয়ে ধমীর্য় সভা-সমাবেশে তাকে বেশি বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। ধমীর্য় সভায় বক্তব্য দিতে দিতে মানুষের কাছে তিনি সুবক্তা হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নিবার্চনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রাথীর্ হন এবং জয়লাভ করেন।

এখনকার জামায়াতে ইসলামী নেতাদের দাবি, সেই উত্তাপ এখনো আছে। আজও বিপুলসংখ্যক মানুষ জামায়াতে ইসলামীর প্রাথীের্ক ভোট দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যেই তাদের প্রাথীর্ চ‚ড়ান্ত করেছে। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রুহুল আমিন এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রাথীর্।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে