শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

লোকসান কাটিয়ে যখন লাভের আশা, তখনই নিষেধাজ্ঞা

২২ দিন ইলিশ ধরায় বিধিনিষেধ
ম আইয়ুব খান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
  ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহণ, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। আজ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে উপজেলার বিভিন্ন নদী ও সাগরে সার্বক্ষণিক টহল দেবে কোস্টগার্ড, পুলিশ ও নৌবাহিনী। এছাড়াও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে। মা ইলিশের বিষয়ে সাসটেইনবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্টের আওতায় তিনজন তথ্য সংগ্রহকারী তথ্য দেবেন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কমপক্ষে এক থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে। উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাসে উপজেলার ছয় নদী ও সাগর মোহনায় ১০ দশমিক ৯০০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ইলিশ উৎপাদন হয় ২৪ দশমিক ১০২ হাজার মেট্রিক টন। এ উপজেলায় ১২ হাজার ৮২০ জন নিবন্ধিত এবং প্রায় ৫ হাজার অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। জানা গেছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এই তিন মাস নদ-নদী এবং সাগরে ইলিশ মাছ ধরার মৌসুম। টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ৭ থেকে ১০ দিনের রসদ নিয়ে ২৩ জুলাই সাগরে মাছ শিকারে যাত্রা করেন উপকূলের জেলেরা। কিন্তু মৌসুমের প্রথমদিকে আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় জেলেরা লোকসানের মুখে পড়েন। তার ওপরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। গত কয়েকদিন ধরে সাগরে ইলিশের দেখা পেয়েছেন নিরাশ জেলেরা। জেলের জালে ধরা পড়া ঝাঁকে ঝাঁকে বড় সাইজের ইলিশ বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। এতে লাভবান হয়েছেন অনেকে। তবে ভিন্ন চিত্র ছিল নদ-নদীর। এবার মৌসুমের শুরু থেকেই ইলিশ সংকট ছিল প্রকট। তবে মৌসুমের শেষাংশে হলেও নদীতে ইলিশের দেখা পেয়ে প্রাণ ফিরেছে জেলে পলস্নীতে। মৎস্যঘাট ঘুরে দেখা গেছে, একাংশ জেলেদের ট্রলার নদী ও সাগর থেকে সারি সারিভাবে ঘাটে এসেছে। সকাল থেকে জাল-সুতা, ট্রলার ধোয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জেলেরা। অনেক ট্রলার মহাজন জেলেদের হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও নদী-সাগরে যে ট্রলার মাছ ধরায় রয়েছে তারা বিকাল-রাতের মধ্যে ঘাটে আসবে বলে জানা গেছে। নদী ও সাগরের জেলেরা বলছেন, 'লোকসান কাটিয়ে কেবল লাভের মুখ দেখব- এর মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা শুরু। মাছের ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে আমাদের কষ্ট হলেও ২২ দিন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকব। আর এই সময়ে জেলেরা কর্মহীন থাকবেন। সংসার, ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার টাকা জোগাতে কষ্ট হবে। খাদ্যসহায়তার যে চাল দেওয়া হয় তাও অপ্রতুল। ২২ দিন পরে মাছ ধরব, সে সুযোগও নেই। শুরু হবে জাটকা ধরার ওপর আট মাসের নিষেধাজ্ঞা।' কোড়ালিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি জহির হাওলাদার জানান, মৌসুমের শুরুতে নদী অনেকটা ইলিশশূন্য ছিল। মাছ না থাকায় জেলেরা ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যঘাট সংশ্লিষ্টরা। তবে কয়েকদিন ধরে নদীতেও মাছ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মৎস্যঘাটে কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরেছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক বাবুল বলেন, 'ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞায় মাছ ধরায় বিরত জেলেদের মাঝে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে শিগগিরই।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে