শেরপুরে উচ্চ ফলনশীল আলু চাষে কৃষকরা এগিয়ে

শেরপুরে উচ্চ ফলনশীল আলু চাষে কৃষকরা এগিয়ে

আলু বিশ্বের অন্যতম প্রধান ফসল। উৎপাদনের দিক থেকে ধান, গম ও ভুট্টার পরেই চতুর্থ স্থানে আছে আলু। বাংলাদেশে আলু একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল।

বাংলাদেশের সর্বত্রই এর চাষ হয়ে থাকে। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারজাতকরণের জন্য কিছু জেলায় এর চাষ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে।

শেরপুর জেলায় ও ৫টি উপজেলাতে কৃষকদের আলুচাষে আগ্রহ দিন দিনে বেড়েই চলেছে। জেলায় শেরপুর সদর উপজেলা ও নকলায় (বি এ ডিসি) দুটি হিমাগার থাকলেও উৎপাদনের তুলনায় হিমাগার অনেক কম। শেরপুর বিএডিসি হিমাগারে (আলুবীজ ) ধারণক্ষমতা সরকারিভাবে ১ হাজার টন থাকলেও সেখানে প্রায় ১২/১৩ টন রাখতে হয় এবং নকলা বিএডিসি হিমাগারের সরকারিভাবে ২ হাজার টন আলুবীজ রাখার ধারণক্ষমতা হলেও উৎপাদনের তুলনায় সেখানেও আড়াই হাজার টন রাখতে হয় ।

বেসরকারিভাবে শেরপুরের তাজ কোল্ডরেজে ১০ হাজার মেট্রিকটন হলেও সেখানেও একই আবস্থা। আলুচাষি বাড়ছে আলু উৎপাদনও বাড়ছে কিন্তু আলুবীজ রাখার ব্যবস্থা কম। শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার উপ-পরিচিালক কৃষিবিদ ড. অমিত কুমার দে বলেন, ৫টি উপজেলাতে আলু চাষ হয় এবং শেরপুরের কৃষকরা আলুচাষে আগ্রহী বেশি।

২০২১ সালেও জেলাতে প্রায় বিএডিসিসহ-৫১৫১ হেক্টর জমিতে উচ্চ-ফলনশীল আলু চাষ হচ্ছে।

শেরপুর (বিএডিসি) শেরীঘাট হিমাগার- উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. সাজেদুর রহমান বলেন, গত ২০১৫/১৬ সালে ৫ হাজার দুইশত হেক্টও, ২০১৬/১৭ সালে পাঁচ হাজার পাঁচ শত পঁয়ত্রিশ হেক্টর, -২০১৭/১৮ সালে চার হাজার আট শত পঁচাশি হেক্টর, ২০১৮/১৯ সালে পাঁচ হাজার আশি হেক্টর ও ২০/২১ সালে পাঁচ হাজার একশ একান্ন হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল আলু চাষ হচ্ছে বলে জানা যায়।

তিনি আরও বলেন, শেরপুরের আলুবীজ দেশের সব জেলাতে চাহিদা বেশি। এখানে, আলু চাষের জন্য বেলে দোআঁশ মাটি বেশি এবং সবচেয়ে উপযোগী।

শেরপুর সদর উপজেলা (বিএডিসির) হিমাগার শেরীঘাট শেরপুরে এ বছর ও ৪৬০ একর ও নকলা (বিএডিসি) হিমাগারে ৩০০ একর জমিতে উচ্চফলনশীল আলু চাষ হচ্ছে।

কৃষিবিদ মো. সাজেদুর রহমান আরও জানান, শেরপুরে উচ্চফলনশীল জাতের প্রায় (২০টি) জাতের আলুবীজ উৎপাদন, যেমন ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্টা ও চিনেলা জাতটি সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। বারি টিপিক্রস-১ এবং বারি টিপিক্রস-২ নামে ২টি হাইব্রিড জাতের আলু বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে উদ্ভাবন করা হয়েছে।

এছাড়াও বারি আলু-১ (হীরা), বারি আলু-৪ (আইলসা), বারি আলু-৭ (ডায়ামন্ট), বারি আলু-৮ (কার্ডিনাল), বারি আলু-১১ (চমক), বারি আলু-১২ (ধীরা), বারি আলু-১৩ (গ্রানোলা), বারি আলু-১৫ (বিনেলা), বারি আলু-১৬ (আরিন্দা), বারি আলু-১৭ (রাজা), বারি আলু-১৮ (বারাকা), বারি আলু-১৯ (বিন্টজে) এবং বারি আলু-২০ (জারলা) জাত রয়েছে। এসব জাত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা থেকে উদ্ভাবিত। এগুলো সবই উচ্চফলনশীল জাত।

বর্তমানে বাংলাদেশে আলু হেক্টরপ্রতি গড় ফলন মাত্র ১১ টন। আলুর উৎপাদন ২০ টন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। ফলন বাড়লে উৎপাদন খরচ কমে আসবে। ভাতের বদলে আলু খেলে চালের ওপর বাড়তি চাপ কমে আসবে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভাতের বদলে যদি আলু মাঝে মাঝে খাওয়া হতো তাহলে চালের ওপর নির্ভরতা অনেক কমে যেত।

বাংলাদেশের কৃষক আলু উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন। কিন্তু এগুলো বিজ্ঞানসম্মত নয়। তাই বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষ করলে একদিকে যেমন কৃষক লাভবান হবে অন্যদিকে ফলনও বাড়বে।

উৎপাদন মৌসুম : বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বর মাসের আগে আলু লাগানো যায় না, কারণ তার আগে জমি তৈরি সম্ভব হয় না। নভেম্বরের পরে আলু লাগালে ফলন কমে যায়। এজন্য উত্তরাঞ্চলে মধ্য-কার্তিক (নভেম্বর প্রথম সপ্তাহ) আলু চাষের জন্য তাপমাত্রা ও আলোর প্রভাব খুবই প্রকট, দেখা গেছে ১৫ ডিগ্রি-২০ ডিগ্রি সে. গড় তাপমাত্রা আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ২০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রার ওপরে গেলে ফলন কমতে থাকে আবার ৩০ ডিগ্রি সে. এ আলু উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায়। আবার ১০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রার নিচে গেলে গাছের বৃদ্ধি কমে যায়। এজন্য আলু লাগানোর সময় ২০ ডিগ্রি-২৫ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রা থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ তাপমাত্রায় গাছ দ্রুত গজায়। আবার বাংলাদেশে দেখা গেছে যে বছর মেঘমুক্ত আকাশ ও তাপমাত্রা সঠিকভাবে থাকে সে বছর আলুর গড় ফলন ১০-১৫% বেড়ে যায়।

আলু শীতকালীন সবজি। আর শীতকাল শুষ্ক এজন্য আলু চাষে সেচের প্রয়োজন হয়। পানির প্রাপ্যতা কম হলে আলুর ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বীজ আলু বপনের ২০-২৫ দিনের মধ্যে একবার সেচ দিতে হবে। ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় সেচ এবং ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে আরেকটি সেচ দিতে হবে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলে ৮-১০ দিন পর সেচ দিলে ফলন বেশি পাওয়া যায়।

যাযাদি/এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে