বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

হরিরামপুরে এক বছরেও শেষ হয়নি বীর নিবাসের কাজ

হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
  ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০০:০০

এক বছরেও বীরনিবাসের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। 'অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় ধাপে চূড়ান্ত তালিকায় মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ৪৩টি বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য বীর নিবাস বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এক বছর ধরে বীর নিবাসের নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ঘরের কাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। সম্প্রতি সরেজমিনে গেলে বীর নিবাস নির্মাণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বলে উপজেলার একাধিক বীরমুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে এ উপজেলার ৪৩টি বীর নিবাস নির্মাণকাজ পান মেসার্স রাফি ট্রেডার্স। এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোনো ঘরের শুধু চারটি দেয়ালই নির্মাণ হয়েছে। আবার কিছু ঘরের ছাদ পেটানোর পরেই থমকে গেছে নির্মাণকাজ। এমন ধীর গতিতে কাজ করায় ক্ষুব্ধ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। তাদের দাবি, বসতঘর ভেঙে বীর নিবাস নির্মাণের জায়গা দেন তারা। কিন্তু ঘর সম্পন্ন না হওয়ায় ঘরের সংকটে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্ট করে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, কোনো কোনো বীর নিবাসের শুধুমাত্র চারটি দেয়াল উঠেছে। কিছু ঘর ছাদ পেটানো হলেও বাকি কাজ রয়েছে অসম্পূর্ণ। এসময় অভিযোগ করে একাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, চার পাশের দেয়াল করে গেছে ৭-৮ মাস হলো আর কোনো খবর নেই। উপজেলা প্রশাসনের কেউ একদিনও এসে দেখল না কি নির্মাণ করা হচ্ছে।

বালস্না ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, 'আজ ৭-৮ মাস ধরে চার পাশের দেয়াল গেঁথে গেছে। আর কোনো খোঁজখবর নাই। যারা কাজ করছে তারাও ঠিকমতো কাজ বোঝে না। আর কেউ কোনো খোঁজখবরও নেয় না। ফেব্রম্নয়ারি মাসেই বীর নিবাস পাওয়া আমার সহযোদ্ধা ভাইদের পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। তারা এই ঘর দেখে যেতে পারলেন না। ঘরে শুয়ে যাওয়া ভাগ্যে জুটল না। আমিও কবে জানি চলে যাই। ঘরে শোয়ার ভাগ্য আমারও হবে কিনা জানি না।'

নাওডুবি গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত আমজাদ হোসেন চৌধুরীর ছেলে হ্যাপি চৌধুরি জানান, এক বছর ধরে কাজ শুরু হয়েছে। এখনও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ ধরে নাই। শুধুমাত্র চারপাশের দেয়াল করা হয়েছে। সেটাও ৭-৮ মাস আগে। এর মধ্যে আর কোনো কাজ হয়নি। প্রায় এক মাস আগে ইউএনও অফিসে ঠিকাদারসহ আমাদের সবাইকে ডেকেছিল। তখন বলা হয়েছিল তিন দিনের মধ্যে আবার কাজ ধরা হবে। কিন্তু তারপর থেকে এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি।'

সুতালড়ী ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুস সোবহানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান, 'গত রোজায় প্রথম কাজ শুরু হয়। কোরবানি ঈদের সময় ছাদ ঢালাই দেয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো কাজ হয়নি। আমার এই ভিটায় থাকার ঘরটি ভেঙে এই বিল্ডিংয়ের জায়গা দিয়েছি। এই ঘর কমপিস্নট না হওয়ায় আমাদের থাকার খুব অসুবিধে হচ্ছে। আমি অসুস্থ মানুষ। যেভাবে কাজ চলছে তাতে এই ঘর দেখে যেতে পারব কিনা সন্দেহ।' এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আল রাফি জানান, 'বিল পাই না তাই কাজ করতে পারছি না। বিল পেলে কাজ শুরু করা হবে।'

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার রহমান জানান, 'এতদিন বাজেট ছিল না। আমরা সঠিকভাবে টাকা পাইনি। এখন টাকা পাচ্ছি। আশা করি, দুই আড়াই মাসের মধ্যে কাজ কমপিস্নট হবে। ইতোমধ্যে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ৪৩টির মধ্যে ৭টি ঘর কমপিস্নট হয়েছে। মূলত ঠিকাদার বিল পাচ্ছিল না। তাই কাজের গতি কম ছিল। আমরা তাদের বিভিন্নভাবে চাপ দিয়েছি, শোকজ করেছি। একাধিকবার মন্ত্রণালয়েও চাপ দেওয়া হয়েছে। এখন কাজের গতি অনেকটা ভালো।'

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে