রাজধানীতে দা-ছুরি চাপাতির বিকিকিনি জমজমাট

রাজধানীতে দা-ছুরি চাপাতির বিকিকিনি জমজমাট

কোরবানির ঈদ ঘিরে জমে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন দা-ছুরি-চাপাতির বাজার। বিকিকিনিসহ হাতুড়ির টুং টাং শব্দে দিন-রাত সরব হয়ে উঠেছে কামারপট্টিগুলো। দা-ছুরি-চাপাতি ছাড়াও বিভিন্ন আকারের কুড়াল এবং মাংস কাটার জন্য গাছের গুঁড়ির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। চলছে পুরনোগুলোতে শান দেওয়ার কাজও।

সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার কামারপট্টি ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। করোনার কারণে গত দু'বছর তেমন একটা জমে না উঠলেও এবার ঈদে বেশ আগ থেকেই ক্রেতা আসতে শুরু করেছেন কামারপট্টিগুলোতে। বিক্রির পাশাপাশি এবার ক্রেতা চাহিদানুযায়ী দা-ছুরি ও চাপাতির অর্ডারের সংখ্যাও বেড়েছে। তাই বিক্রেতাদের আশা, কিছুটা হলেও মহামারির ধকল এবার কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

তবে গত বছরের তুলনায় এবার বাজার বেশ চড়া। প্রায় সবধরনের আইটেমে দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, দাম কিছুটা বাড়লেও তাদের ব্যবসা তত বাড়েনি। লোহার বর্তমান বাজার হিসেবে তারা কেজিতে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। তবুও আগের তুলনায় ব্যবসা কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

রাজধানীর বিক্রেতারা জানান, তাদের কাঁচামালের প্রধান উৎস বুড়িগঙ্গার তীরের বিভিন্ন শিপিংইয়ার্ডের ব্যবহৃত লোহার শিট। আগে কম দামে রেললাইনের স্স্নিপার বিক্রি হলেও এখন তা বন্ধ রয়েছে। এখন প্রতি কেজি শিট কিনতে খরচ হয় ৫০০ টাকার ওপরে। এরপর পরিবহণ, কয়লাসহ নির্মাণ ব্যয় আরও ৩০০ টাকা। অথচ ২ বছর আগেও সব মিলিয়ে ব্যয় হতো ৫০০ টাকা। সে হিসেবে দাম বাড়েনি বরং তাদের ব্যবসা কমেছে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে দেশে এসব পণ্যের বাজার মূলত কোরবানির ঈদকেন্দ্রিক। সারাবছর এসব পণ্যের বিক্রীত অর্থের পরিমাণ ঈদের বিক্রির ১০ ভাগেরও কম। কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা হানিফ শাহ জানান, আগে ১ লাখ টাকার কাঁচামালে অন্তত ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যবসা হতো, এখন এই টাকা বিনিয়োগে ১০ হাজার টাকা ব্যবসা আসে না। কাঁচমালের দাম বৃদ্ধিতে সম পরিমাণ পণ্যে উৎপাদনে বিনিয়োগ প্রায় দ্বিগুণ করতে হয়েছে। বিপরীতে কমেছে মুনাফার পরিমাণ।

এদিকে কারওয়ান বাজার ছাড়াও মিরপুর-১, মোহাম্মাদপুর বিহারী ক্যাম্প, শেওড়াপাড়া ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকার হার্ডওয়্যার ও অস্থায়ী দোকানেও চলছে পশু কোরবানির এসব সরঞ্জাম বিক্রি। তবে কামারপট্টির তুলনায় এখানকার দাম একটু বেশি।

রাজধানীর এসব দোকানে এবার গরু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর ছুরি বিক্রি করা হচ্ছে ৩০০ টাকার ওপরে। যা গতবার বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকার মধ্যে। দাম বেড়েছে ঈদে সবচে' বেশি বিক্রি হওয়া চাপাতিতে। ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের একটা চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকার ওপরে। যা গতবার ছিল ৮০০ টাকার মধ্যে। এছাড়াও গতবারের তুলনায় ৫০০ টাকার বেশি বেড়েছে বিদেশি চাপাতির দাম। এক কেজির ওপরে মানভেদে এসব চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এদিকে দাম যাই হোক পছন্দের পশু কোরবানি ও ঈদ উদ্‌যাপনে ক্রেতাদের আগ্রহ আর আনন্দে কোনো কমতি ছিল না। ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে বাজারগুলোতে এসেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

এ সময় কথা হয় ক্রেতা গোলাম রাব্বীর সঙ্গে। তিনি জানান, একদিন আগে তিনিসহ তার দুই বোন মিলে কোরবানির পশু কিনেছেন। তাই কোরবানির পশু জবাইসহ মাংস সংগ্রহের সব দায়িত্ব তার ওপর। ৪টি চাপাতি, ৩টা মাংস কাটার বঁটি ও ১টি কুড়াল কিনেছেন। তিনি আরও বলেন, এবারই প্রথম কারওয়ান বাজার এসেছি ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনতে। বহু বছর আগে গ্রামে থাকাকালীন কোরবানির ঈদে এভাবে ছুরি, চাপাতি কেনা হতো। ঢাকাতে এই প্রথম। তাই দাম একটু বেশি হলেও আনন্দ অনেক।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে